Daily Jurain | দৈনিক জুরাইন

হালদা থেকে পানি ওঠালে কোনো সমস্যা হবে না : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

চট্টগ্রামের মিরসাইয়ে বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক অঞ্চলে সরবরাহের জন্য হালদা নদী থেকে পানি ওঠালে নদীর কোনো সমস্যা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত চীন সরকারের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া এলইডি বাল্ব বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, মিরসরাইতে যদি ইকোনোমিক জোন করতে হয় তাহলে বিদ্যুৎ লাগবে, গ্যাস লাগবে, পানি লাগবে। এ সাপোর্টগুলো সরবরাহ করার জন্য আপনাদের সবাইকে সহযোগীতা করতে হবে। ভুল-বোঝাবুঝি করা ঠিক হবে না। হালদায় প্রতি সেকেন্ডে ৩৭০ কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সেখান থেকে ৩ দশমিক ৭ কিউসেক পানি যদি উত্তোলন করা হয়, তাতে নদীর পানি প্রবাহের কোনো সমস্যা হবে না। এটা হওয়ার কোনো কারণ নেই। হালদা নিয়ে রামপালের মত ভুল-বোঝাবুঝি এড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, তিন মাস হালদায় মাছ প্রজনন হয়। এখানে উন্নয়নের ব্যাপারে ভ্রান্ত ধারণার কারণে যদি প্রকল্প ব্যাহত হয় তাহলে এর দায় সবাইকে বহন করতে হবে। পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। ভুল-বোঝাবুঝি করলে কিছুই হবে না। তাজুল ইসলাম আরও বলেন, কুমিল্লার উন্নয়ন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন, ঢাকার উন্নয়ন সবগুলোই কিন্তু একসাথে করতে হবে। ঢাকা যদি খারাপ থাকে, চট্টগ্রাম যদি বঞ্চিত হয় তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে না। সে কারণে সবগুলোর জন্য একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা নিয়ে কাজ করার অঙ্গিকার করতে হবে। দেশের স্বার্থে সমন্বয়ে জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মিরসরাইতে ইকোনোমিক জোন হবে, সেখানে ৩০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবার জন্য একটা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইকোনোমিক জোনকে কার্যকরি করার জন্য আমাদের সবাইকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করতে হবে। একেক জায়গায় একেকটা জিনিস পাওয়া যায়। এখন আমরা যদি সেখানে শিল্পনগরী করি তাহলে সেখানে পানি পাওয়া যাবে না। এজন্য অন্য জায়গা থেকে পানি আনতে হবে। এক জায়গায় শ্রমিক পাওয়া যাবে আরেক জায়গায় পানি পাওয়া যাবে। এজন্য সবগুলোকে সমন্বয় করতে হবে। মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে পানি সরবরাহের লক্ষ্যে হালদা তীরে চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন পানি শোধনাগারের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ইতোমধ্যেই আপত্তি এসেছে। বর্তমানে বিদ্যমান দুটি পানি শোধনাগারে হালদা নদী থেকে দিনে ১৮ কোটি লিটার পানি তোলা হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি হলে দৈনিক আরও ১৪ কোটি লিটার পানি তোলা হবে। হালদা নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে হালদা থেকে যদি আরও পানি উত্তোলন করা হয়, তাহলে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা কমে লবণাক্ততা বেড়ে যাবে। এতে প্রাকৃতিক এই মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রে মা মাছের চলাচল ও ডিম ছাড়া বিঘ্নিত হতে পারে। তবে সরকারের তরফে বারবার বলা হচ্ছে হালদা-কর্ণফুলীর সংযোগস্থলের কাছাকাছি থেকে নতুন প্রকল্পের জন্য পানি উত্তোলন খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন করতে হলে চট্টগ্রামকে গুরুত্ব দিতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর না থাকলে বাংলাদেশ এত ভাগ্যবান হতো না। অনেক দেশ আছে যাদের বন্দর থাকলেও আমাদের দেশের মতো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাজুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। সে স্বপ্ন এখন বাস্তবায়ন করছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যসহ সব সেক্টরে উন্নতি হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রেখে ৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের নালা-নর্দমা, খাল-বিল পরিষ্কার রাখতে হবে, ওয়াকওয়ে পরিষ্কার থাকবে। তাহলে মানুষ প্রাণ ভরে শ্বাস নিতে পারবে। বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নাই। মিরসরাই ইকোনমিক জোন হবে, ৩০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। উন্নয়নের ব্যাপারে ভ্রান্ত ধারণার কারণে অনেক সময় উন্নয়ন ব্যাহত হয় মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, এর দায় সবাইকে বহন করতে হবে। বিলিয়ন ডলার ইনকাম করার সুযোগ আছে চট্টগ্রাম থেকে, তার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা পারস্পরিক যোগাযোগে তা করতে পারবো। রামপাল পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে অনেক ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। এটা এখন বাস্তবায়ন হয়েছে, ভবিষ্যতে জ¦ালানি সংকট থাকবে না। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সমুদ্রসীমা নিয়ে কাজ করেছে, এরপর কোনো সরকার কাজ করেনি। আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় এলে তদবির করে। শেখ হাসিনার সরকার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার কারণে আমাদের সমুদ্রসীমা জয় হয়েছে। আমাদের ভৌগোলিক সীমানা নিয়ে অনেক সমস্যা ছিল, ছিটমহল সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। ভারত থেকে আমরা ১০ গুণ বেশি জায়গা পেয়েছি ছিটমহলে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হবে, তার জন্য কাজ করতে হবে। সব মানুষ একসাথে ভালো কাজ করলে, ভালো চিন্তা করলে দেশ এগিয়ে যাবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সচিব শাকিলা ফারজানার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মিজানুর রহমান।