রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মিয়ানমার তার প্রতিশ্রুতি রাখছে না-বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
532

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না

বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রথম সভায় এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।  বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, আমরা সব দিক থেকে চেষ্টা করছি, আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমরা যেখানে যাওয়া প্রয়োজন সেখানে যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন, একটা ফর্মুলা দিয়েছেন।

মিয়ানমার তার প্রতিশ্রুতি রাখছে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা (মিয়ানমার) অনেক কিছু কমিটমেন্ট করেছে, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। সেজন্যই আমরা বলছি, তারা যেগুলো বলছে সেগুলো করার জন্য আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।

ওদিকে, রোহিঙ্গা এডুকেশন ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের সাধারণ সম্পাদক জনাব জমিরুদ্দিন রেডিও তেহরানকে বলেছেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নেবে এমন সম্ভাবনা দেখা  যাচ্ছে না। তারা বরং ধারাবাহিক নিপীড়নের মাধ্যমে  বাকিদেরও দেশছাড়া করার তৎতপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

গতকালকের সভায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পগুলোর চারিদিকে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। যাতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকরা যত্রতত্র যাতায়াত করতে না পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কাঁটাতারের বেড়া ও ওয়াক ওয়ের কাজটা তাড়াতাড়ি শেষ করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় দুটি এপিবিএন ব্যাটালিয়ন তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে মাদককে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পগুলোতে দেখা যায়, যারা অবস্থান করছেন তারা মাঝে মাঝে মিয়ানমারে চলে যাচ্ছেন। সেখান থেকে ইয়াবা নামক মাদক এনে এবং লাভ-লোকসানের বাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি এমনকি কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেজন্য দিনে-রাতে টহল আরও জোরদার করা হচ্ছে।

আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, কক্সবাজারের ক্যাম্পের গাদাগাদি অবস্থা কমাতে এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাসানচরে কাউকে জোর করে পাঠানো হয়নি ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর কয়েক মাসের মধ্যে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। আগে থেকে বাংলাদেশে ছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা।

আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও সেই প্রত্যাবাসন আজও শুরু হয়নি।

২০১৯ সালে দুই দফা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাখাইন রাজ্যের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরে ফিরতে রাজি হননি রোহিঙ্গারা। তারা যেন নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে স্বভূমিতে ফিরতে পারে সেই বন্দোবস্ত করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সভায় পরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, জননিরাপত্তা সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here