‘যাদের নীতি ‘হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুত্ব’ তাদের দৃষ্টিতেই হিন্দু কখনই দেশবিরোধী হতে পারে না’

0
522

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও নব বালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার বলেছেন, যাদের দর্শনটা হচ্ছে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুত্ব তারা এটা বলতেই পারেন যে হিন্দু কখনই দেশবিরোধী হতে পারে না!

হিন্দু কখনই দেশবিরোধী হতে পারে না- আরএসএস-এর সাম্প্রতিক এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে ভারতের মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি প্রশ্ন তুলেছেন, তবে গড্‌সে কী ছিল’?”- এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় জনাব সাত্তার আজ এই মন্তব্য করেন।

গত শনিবার রেডিও তেহরানকে তিনি  বলেন, ‘এই পরিপ্রেক্ষিতে একটাই কথা বলা যায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ তার জন্মলগ্ন থেকে একটা বিশেষ দর্শনের দ্বারা চালিত এবং পালিত। সেই দর্শনটা হল হিন্দি, হিন্দু এবং হিন্দুত্ব তাহলে যাদের দর্শনটা হচ্ছে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুত্ব তারা এমন ধরণের কথা বলবেন এর মধ্যে অস্বাভাবিকতা কোথায়? এর মধ্যে কোথাও অস্বাভাবিকতা নেই। এই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা তারা এতো বছর ধরে চালিত হচ্ছেন। তাদের দর্শনের মধ্যে গুরু গুলওয়ালকর হচ্ছেন সবথেকে বড়ো জায়গা। বড়ো স্থান আছে তার। তারা তো বহুত্ববাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, ভারতবর্ষের সব ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও তার বৈচিত্র্য বহুত্বের মধ্যে একত্ব- এই নিয়েই যে ভারতবর্ষ- সেই ভারতবর্ষকে তারা তো দেখতে পান না, দেখতে চানও না। আর চান না বলেই তারা এই ধরণের কথা বলেন।’

অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার আরও বলেন, ‘এটা নতুন কিছু নয়। এই ধরণের কথা আগেও বলতেন তারা, তবে এতটা হয়তো গুরুত্ব পেত না। কিন্তু এখন প্রতিনিয়ত গুরুত্ব পাচ্ছে তার কারণ এই দর্শনেরই সমর্থনপুষ্ট একটি সরকার আছে। এটা আমরা সকলেই জানি যে, আরএসএসের হচ্ছে যে, স্বয়ংসেবকরা আজকে দেশ চালাচ্ছেন। দেশে বেশিরভাগ রাজ্য তারা পরিচালনা করছেন। ফলে বিষয়গুলো আজকে গুরুত্ব পাচ্ছে। আরো বেশি হচ্ছে যে সংবাদ মাধ্যমের কল্যাণে আমরা জানতে পারছি।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু এই কথাগুলো তারা নতুন বলছেন তা নয়। এই কথা গুলো তারা ১৯২৫ সাল থেকেই তারা বলছেন ফলে তাদের কাছ থেকে এর বেশি কিছু প্রত্যাশা অন্তত আমি করি না। কী বা প্রত্যাশা করবো তাদের কাছ থেকে। কারণ এ দেশে তো শুধু হিন্দু নয়, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, জৈন এতো গেলো ধর্মের ভিত্তিতে। ভাষাভাষীর ক্ষেত্রে বহু ভাষাভাষীর মানুষ বাস করে। তাদের ভাষা, তাদের পোশাক পরিচ্ছদ, খাবার-দাবার, ধর্মের ভিন্নতা এই মিলিয়েই তো ভারতবর্ষ, যে কথাটা আমরা বলি ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’। এই ঐক্যের মধ্যেই তো ভারতবর্ষ থাকে। কিন্তু বৈচিত্র্য কখনোই আরএসএসের দর্শনে স্থান পায়নি। তাদের মূল লক্ষ হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুত্ব ফলে তারা এ ধরণের কথাই বলবেন।’

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here