Daily Jurain | দৈনিক জুরাইন

বিদেশে কাজের নামে সোনার হরিণ ধরার জন্য অন্ধের মতো ছুটবেন না: প্রধানমন্ত্রী

বিদেশগামীদের উদ্দেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন আমাদের দেশে কাজের যেমন অভাব নেই, খাবারেরও অভাব নেই আল্লাহর রহমতে। কাজেই বিদেশে কাজের নামে সোনার হরিণ ধরার জন্য অন্ধের মতো ছুটবেন না।’

আজ (বুধবার) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০২০’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানের গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন তিনি।

সরকার প্রধান বলেন, ‘যারা বিদেশে যেতে চান, তাদের কর্মসংস্থান ঠিক মতো হচ্ছে কিনা, তাদের নিরাপত্তা ঠিক মতো হচ্ছে কিনা, বিশেষ করে মেয়েরা, যারা যান, তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

বিদেশগামীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশে ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি আমরা। সেখানে আপনারা বিদেশ যেতে নিবন্ধন করতে পারবেন। আর এই নিবন্ধনের মাধ্যমে যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয় সেখানেই পাঠানো হয়। কাজেই সেক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হবে। কিন্তু আপনারা কারও প্ররোচনায় বিদেশ গিয়ে যদি বিপদে পড়েন তাহলে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য খুবই কষ্টকর। লিবিয়ার ঘটনার মতো আর যেন না হয়। এরকম পরিস্থিতির শিকার হবেন না। এখন আমাদের দেশে কাজের অভাব নেই, খাবারের অভাব নেই। তাই সোনার হরিণ ধরার জন্য অন্যের প্ররোচনায় ছুটবেন না। নিবন্ধন করে নিরাপদে যাবেন সেটাই আমরা চাইব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসীদের কল্যাণে আমাদের সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। করোনাভাইরাসের কারণে অনেক জায়গায় অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। কাজেই অনেকে কাজ হারাচ্ছেন। ব্যাংকের মাধ্যমে আমরা ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। কাজেই আপনারা হতাশ হবেন না। নিজেরাই নিজের দেশে কাজ করেন। আমাদের অনেক মেগা প্রকল্প চলমান আছে। সেখানে বহু কর্মী কাজ পেয়েছে। যারা বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে কাজ করছেন, তারা এই অভিজ্ঞতা অর্জনের কারণে দেশে যেমন কাজের সুযোগ পাবেন, তেমনি বিদেশেও পাবেন। সেজন্য আমি বলবো, নিজেদের কথা, পরিবারের কথা অবশ্যই চিন্তা করবেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের এ শ্রমিক অভিবাসনের সঙ্গে যারা জড়িত, বিশেষ করে রিক্রুটিং এজেন্ট থেকে শুরু করে আমাদের মন্ত্রণালয়, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ, এদেশের মানুষও কিন্তু মানুষ, সেভাবে তাদের মর্যাদা দিতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত যারা এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর যেসব সংগঠন আছে, তাদের আমি দায়িত্বশীলভাবে ভূমিকা পালন করার অনুরোধ করব। কারণ, দায়িত্বটা আপনাদের ওপরই বর্তায়।’