Daily Jurain | দৈনিক জুরাইন

বর্ষার প্রবল স্রোতেও চলছে পদ্মা সেতুর নদী শাসনের কাজ

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় চলতি বছর প্রথমবারের মতো বর্ষা মৌসুমেও চালিয়ে নেয়া হচ্ছে পদ্মা সেতুর নদী শাসনের কাজ। তাই, কাজে গতি এলে মূল সেতুর আগেই নদী শাসনের কাজ শেষ করার ব্যাপারে আশাবাদী প্রকল্প পরিচালক। গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়াতে চান চীনের সিনোহাইড্রো কোম্পানি।

বর্ষার প্রবল স্রোতে অনেকটাই থেমে আছে পদ্মা সেতুর কাজ। গত ২ মাসেও বসানো যায় নি নতুন কোন স্প্যান। বর্ষা সবচে বেশি সমস্যা সৃষ্টি করে নদী শাসনের কাজে। তাই গত ৩ বছর বর্ষায় কাজ কার্যত বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করা যায় নি।

পাল্টে নিতে হয়েছে তাই পরিকল্পনা। গত মৌসুমগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বর্ষার চরম প্রতিকূলতার মধ্যেই চালিয়ে নেয়া হচ্ছে নদী শাসনের কাজ। পদ্মার মাওয়া প্রান্তে দেড় কিলোমিটার, আর জাজিরা প্রান্তে সাড়ে ১০ কিলোমিটার, সব মিলিয়ে ১২ কিলোমিটার নদীর পাড় ও তলদেশে করা হচ্ছে নদী শাসন। এ এলাকায় প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে হাজার হাজার বালির বস্তা, কংক্রিটের ব্লক। কাজের বর্তমান অগ্রগতিতে আশাবাদী প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন,’কাজের অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের কর্মীদের অভিজ্ঞতা বেড়েছে। নদী শাসনের কাজ পিছিয়ে আছে। তবে ১ বছর পর দেখা যাবে নদী শাসনের কাজ ব্রিজের কাজের চেয়ে অগ্রগতি হয়েছে।’

প্রাথমিকভাবে মূল সেতুর মতো নদী শাসনের কাজও শেষ করার কথা ছিলো ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে। পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আরও এক বছর। এখন মেয়াদ আরও বাড়ানোর কথা বলছে সিনোহাইড্রো কোম্পানী। শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুই পক্ষকেই আমরা বলবো এই সময়ের পর আর সময় তোমরা পাবে না। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

সেতুর বাকি প্রকল্প এপ্রোচ রোড, সার্ভিস এরিয়া ও পুনর্বাসনের কাজ শতভাগ শেষ। মূল সেতুর কাজে ৮৩ভাগ অগ্রগতি হলেও নদী শাসনের কাজ হয়েছে সবচে কম, মাত্র ৬১ ভাগ।

নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে আগের তিন বছরে নদী শাসনের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এত লম্বা সময় কাজ বন্ধ থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এবার তাই কাজের মেয়াদের বাড়ানোর পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমেও চলছে নদী শাসনের কাজ।