করোনা ভ্যাকসিনের জন্য একনেকে ৪,৩১৪ কোটির বেশি অনুমোদন: বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া

0
427

বাংলাদেশে “কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স” প্রকল্পের আওতায় করোনা ভ্যাকসিন ক্রয়, সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য মোট ৪ হাজার ৩১৪ কোটি ৪৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) একনেক সভায় গণভবন থেকে ভিডিও মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে,  চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ভ্যাকসিন কিনতে ৩ হাজার ৩০ কোটি টাকা খরচ করা হবে এবং বরাদ্দের বাকি অর্থ পর্যায়ক্রমে খরচ হবে।

এর আগে, সোমবার (৪ জানুয়ারি) অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন বাংলাদেশে জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেয় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের সাময়িক অনুমোদন দেন।

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামান বলেন, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড টিকা বাংলাদেশে জরুরি ব্যবহারের জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক গতকাল (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের সাময়িক অনুমোদন দিয়েছেন।

ভারতীয় সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়ার এক মাসের মধ্যে তাদের টিকা সরবরাহ করা হবে। সেরাম ইনস্টিটিউটকে ধাপে ধাপে তিন কোটি ডোজ টিকা বাংলাদেশকে সরবরাহ করার জন্য অঙ্গীকার করেছে।

এদিকে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, করোনার যে টিকা তা ভারত পাচ্ছে দুই ডলারে আর বাংলাদেশ  পাবে সোয়া পাঁচ ডলারে।তাহলে বাড়তি টাকাটা কে নিয়ে যাচ্ছে?

আজকে টিকার জন্য প্রথম ধাপে যে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্ধ  দিয়েছে বাংলাদেশ।  এর চেয়ে কম টাকায় যদি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দশ বিজ্ঞানীকে এক কোটি টাকা মাসিক বেতনে আনা হতো, তাহলেও দেশের ১২০ কোটি টাকা খরচ হতো। এখানে অনেক বেশি বিজ্ঞানী তৈরি হতে পারত। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, দেশেই এক বছরের মধ্যে টিকা তৈরি করা যেত। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজকে দেশের প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেককে যদি ৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হতো, তবে তারাও দেশি বিজ্ঞানীদের নিয়ে কাজ করতে পারত। আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাহলে আজকে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে টিকা আবিষ্কৃত হতো।

ভারতীয় সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ডের তৈরি করোনার ভ্যাকসিন গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আছে। তারা ভারতের বাইরে এই ভ্যাকসিন রফতানিতে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এই বিষয়ে করণীয় নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আজ সোমবার (৪ জানুয়ারি) করোনা ভ্যাকসিনের অগ্রগতি নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছ।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভারতের ভ্যাকসিন দেশে পাওয়া যাবে। নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির সঙ্গে চুক্তি করা অন্যান্য দেশগুলোকে ভ্যাকসিন পেতে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করা লাগতে পারে বলে জানা গেছে। ভ্যাকসিন রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে সিরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদর পুনাওয়ালা বলেন, কয়েক মাসের জন্য ভ্যাকসিন রফতানির অনুমতি দেয়া হবে না। ভারতীয়রা যাতে যথাযথভাবে ভ্যাকসিন পায় সেজন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন রপ্তানির বিষয় খোলাসা করেছে ভারত। দেশটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে করোনার ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে ভারতের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত সব মানুষের জন্য ভ্যাকসিন তৈরি করবে এবং এটি সর্বোচ্চ স্তরের প্রতিশ্রুতি। এদিকে ভারতের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইন্সটিটিউটও জানিয়েছে, তাদের টিকা রফতানির ওপর কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। সেরাম ইন্সটিটিউটের জনসংযোগ কর্মকর্তা মায়াঙ্ক সেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, ভ্যাকসিন রফতানিতে নিষেধাজ্ঞার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ তাদের ভ্যাকসিন রফতানির ওপর কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে করোনা ভ্যাকসিন রফতানির অনুমোদন পেতে আরো কয়েকমাস পর্যন্ত সময় লাগবে বলেও জানান মায়াঙ্ক সেন।

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here