
অবৈধ দখলবাজির কারণে প্রশস্তকরণে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে পূর্ব জুরাইন-বড়ইতলা এক কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ। আর এমন অসংগতির বিষয় অবগত নন স্থানীয় সংসদ সদস্য। অপরদিকে ঢিমেতালে চলছে দক্ষিণ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের তদারকি।
জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে নির্মিতব্য পূর্ব জুরাইন-বড়ইতলা এক কিলোমিটার সড়কটির দুই প্রান্তে অবৈধ দখলবাজির কারণে সিডিউল অনুযায়ী ৩০ ফুট প্রশস্তকরণের যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে তাতে বাধাগ্রস্থ হয়ে দাঁড়িয়েছে আর কে কলেজের পূর্ব জুরাইন শাখার ভবনটির একাংশ। অপরদিকে বড়ইতলা প্রান্তে দুই পাশে অবৈধভাবে ওয়াসার জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের বসতভিটা। এরফলে জুরাইন-বড়ইতলা সড়কটি দুই প্রান্তে যথাক্রমে ২২ ও ১৯ ফুট করে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আলী অ্যান্ড কোম্পানি প্রকল্পটি ইতিমধ্যে ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকতা আবুল বলেন, আমরা যেখানে যে অবস্থায় সড়কটি পেয়েছি সেটার ওপর উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছি। এভাবেই সিটি কর্পোরেশন আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। কোথায় অবৈধ ভবন এসব আমাদের দেখার বিষয় নয়।সড়েজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পুর্ব জুরাইনের বিক্রমপুর প্লাজার পাশে এক দশক আগে আর কে কলেজের শাখা ভবনটির বারান্দা ওয়াসার জায়গা দখল করে গড়ে ওঠে। ফলে ৩০ ফুটের স্থলে সড়কটির প্রবেশমুখে ২৩ ফুট রেখেই ড্রেন, ঢালাইয়ের জন্য মাটি ও ম্যাকাডেমের কাজ চলমান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-৫ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষরিত তিন বার ওয়াসার জায়গা ছেড়ে দিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ বরাবর নোটিশও করে। কিন্তু নোটিশকে উপক্ষো করেই বহাল তবিয়তে আছে আর কে কলেজের জুরাইন শাখার ভবন।
কলেজটির প্রিন্সিপাল ইসতারুল হক মোল্লা আজকালের খবরের কাছে স্বীকার করেন কলেজটি দুর্বল তাই বারান্দা ভাঙা যাচ্ছে না। তবে সিটি কর্পোরেশন ইচ্ছা করলে কলেজের উল্টো দিকে রেলের জায়গা থেকে সাত ফুট জায়গা নিয়ে সড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ করতে পারে।
ভবনটি পরিদর্শন করে দেখা যায় মাত্র ৩০/৩৫ জন শিক্ষাত্রী রয়েছে কলেজটিতে। যাদের অধিকাংশ এ এলাকারও নন। স্থানীয়ভাবে জনশ্রæতি রয়েছে দোতলা ভবনটি ওই সময়ই দুর্বলভাবে গড়ে ওঠায় এলাকার সন্তানদের এ কলেজে তারা ভর্তি করেন না।
এদিকে বড়ইতল প্রান্তে স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের দখলে পড়ে সড়টির বাহির মুখ সরু হতে হতে ১৯ ফুট রেখেই ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি দেখতে এলাবাসীর লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামসুল হক গত ১২ দিন আগে এলাকায় যান। এ সময় তিনি সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য দুইপাশের বাড়িওয়ালাদের ওয়াসার জায়গায় গড়ে ওঠা তাদের অবৈধ অংশ চারদিনের মধ্যে ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু স্থানীয়রা ক্ষমতাসীনদের অনুগত হওয়ায় এখনও সেগুলো অপসারণ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে শ্যামপুর-পূর্ব জুরাইন বাড়ি মালিক পঞ্চায়েত পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা এম এ সাত্তার বলেন, কলেজ ভবনটি এক দশক আগে ওয়াসার জায়গা দখল করে দুর্বলভাবেই তোলা হয়েছে তখন আমরা বাধা দিয়েও কিছু করতে পারিনি। এখানে স্থানীয়রা তাদের সন্তানদের ভর্তি করান না নিরাপত্তা ঝুকির কারণে। এখন নতুন করে সড়ক প্রশস্ত হচ্ছে এ অবস্থায় সিটি কর্পোরেশনের কাছে দাবি ৩০ ফুট নিশ্চিত করেই যেন কাজ করা হয়। নইলে সরকারের কোটি কোটি টাকার গচ্চা যাবে।
বিশিষ্ঠ সমাজকর্মী এম আর আউয়াল হোসেন বলেন, দুই প্রান্তে সরু করে মাঝখানে ৩০ ফুট করার যে প্রচেষ্টা সেটা কার স্বার্থে? অসংগতি রেখে সড়কটি চালু হলে প্রতিদিন শত শত মালবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান চলাচলে বাধাগ্রস্থ হবে। তাই অবিলম্বে দুই প্রান্তের এই অসংগতি দূর করে সড়কের কাজ সম্পন্ন করার অনুরোধ করছি।
বিক্রমপুর প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও ৫৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি সোহরাব হোসেন বলেন, অবৈধভাবে দখলে থাকা কলেজের বারান্দা ভাঙা না হলে সড়কটি কোন কাজেই আসবে না।
সার্বিক সড়কটি নিয়ে স্থানীয় এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘শরীর ভালো নয় তাই এখনও সরেজমিনে গিয়ে দেখা হয়নি। দেখেই দ্রæত এর কার্যকরি পদক্ষেপ নেব।’
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আঞ্চলিক প্রধান সামসুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এর সত্যতা স্বীকার করেন। বলেন, আমরা গত ৬ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসীর লিখিত আবেদনের পর পরিদর্শনে গিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেম দিয়েছি। শুনেছি এখনও করেনি, শিগগিরই সেগুলো ভাঙতে অভিযান পরিচালনা করব। কলেজের বারান্দার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ভাঙার জন্য এলাকাবাসীর আবেদনের কপিসহ সম্পত্তি বিভাগের প্রধানের কাছে চিঠি দিয়েছে। বাকি পদক্ষেপ তিনি নিবেন।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের প্রধান আসাদুজ্জামান আজকালের খবরকে বলেন, অঞ্চল-৫ থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। জাতীয় নির্বাচনের আগে মনে হয় না কিছু করা সম্ভব। তারপরও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে আলোচনা করব। এক পর্যায়ে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে প্রশ্ন তোলেন আগা-মাথায় এমন অসংগতি রেখে প্রকৌশলীদের নাকের ডগায় কাজ চলছে কিভাবে? এখানে ঠিকাদারের চেয়ে বেশি ভূমিকা জোনাল প্রকৌশলীদের।
যদিও অঞ্চল-৫ এর নির্বাহী প্রকৌশলী বোরহানউদ্দিন বলছেন, যেখানে যে অবস্থায় পাওয়া যাবে সে অবস্থায়ই ঢালাই হবে মর্মে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে উচ্ছেদ বা অধিগ্রহণের বিষয়টি এখতিয়ারভুক্ত নেই। ভবিষ্যতে অধিগ্রহণের বিষয়টি যোগ হলে তখন ভাবা যাবে বলে জানান।















